কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন বা যে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে চার্জার খুই গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। খাবার খেয়ে আমরা যেমন সুস্থ থাকি এবং গতিশীলতা ও জীবনীশক্তি পাই, তেমনি এসব ডিভাইসের জন্যও একই কাজ করে চার্জার বা অ্যাডাপ্টার। চার্জার ছাড়া যে কোনো ডিভাইসই অকেজো।
তবে চার্জারের রং নিয়ে অনেকের মনে কৌতূহল জাগে। সব সময়ই দেখা যায় স্মার্টফোনের চার্জার বা অ্যাডাপ্টরের রং সাদা অথবা কালো রঙের হয়। এই রঙের পেছনে কোনো কারণ অবশ্যই আছে। আসল কারণটা অন্য কিছু।
একটি নির্দিষ্ট কারণেই স্মার্টফোনের চার্জার শুধু কালো বা সাদা রঙের হয়ে থাকে। অনেকেই বলতে পারেন, লাল ওয়ানপ্লাস চার্জারের বিষয়ে। তবে সেটার কেবল (তার) লাল এবং চার্জার কিন্তু সাদা। তাই প্রশ্ন জাগে, সাদা ও কালো ছাড়া অন্য রঙে চার্জার তৈরি হয় না কেন?
আসলে প্রতিটি রঙের ভিন্ন ভিন্ন তাপ পরিবাহী ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ একেকটি রং একেক মাত্রায় তাপ শোষণ করে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি তাপ শোষণ করতে পারে কালো রং। সে জন্যই চার্জার মূলত কালো রঙের হয়। এটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায়, ফলে তা সহজেই গরম হয়ে ওঠে। বেশি গরম হয়ে গেলে তার পুড়ে যাবে, ডিভাইসেরও ক্ষতি হবে। কালো রঙে সে আশঙ্কা নেই, তাই চার্জার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কালো রঙের হয়। অন্য রং সহজেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এখানে আর্থিক দিকও আছে। কালো চার্জারগুলোর কাঁচামালের খরচ অন্যান্য রঙের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে এটি কোম্পানিগুলোর জন্য খুবই সাশ্রয়ী।
ইদানীং অবশ্য সাদা রঙের চার্জারও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। আপনি সম্ভবত দেখেছেন যে, বেশির ভাগ গ্যাজেট নির্মাতা আজকাল তাদের ডিভাইসের জন্য সাদা রঙের চার্জার অফার করছে। এর কারণ তাপ পরিবাহনের সময় সাদা রং কালো রং থেকে আরও কম উত্তপ্ত হয়।
বর্তমানে রেডমি ও রিয়েলমি, ভিভো, অপো, ওয়ানপ্লাসের মতো কোম্পানিগুলো বর্তমানে সাদা রঙের চার্জার অফার করছে। আর যখন অ্যাপলের কথা আসে, তারাও সব সময় সাদা চার্জার অফার করে। এখনো প্রযুক্তিবিশ্বে সেরার তকমা তো তাদেরই হাতে।
Leave a Reply