গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে নওগাঁয় দলটির বিভিন্ন ইউনিট থেকে ২১৫ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নওগাঁ জেলায় গণঅধিকার পরিষদ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শহরের প্যারিমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা আসে।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। তাদের নেতৃত্ব দেন জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবাদুল ইসলাম ও আখতারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান এবং জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শাকিব খান।
লিখিত বক্তব্যে এবাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের কথা বলে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতারা পুরোপুরি সেখান থেকে সরে গেছেন। তৃণমূলের যারা মাঠে থেকে সংগঠন গড়ে তুলেছেন, তাদের কোনো মূল্য নেই। সাম্প্রতিক সময়ে নওগাঁ জেলা কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদে বসানো হয়েছে। এমনকি সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে, যিনি নওগাঁয় দল গঠনে কোনো ভূমিকা রাখেননি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করছি এবং নওগাঁয় গণঅধিকার পরিষদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। এই জেলায় দলটির কোনো কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।”
অভিযোগে বলা হয়, শুধু জেলা কমিটিই নয়, নওগাঁর ১১টি উপজেলা কমিটি গঠনেও টাকার বিনিময়ে পদ বণ্টন করা হয়েছে। নতুনধারার রাজনীতির কথা বলে শুরু হলেও বর্তমানে দলটি পুরনো ধ্যান-ধারণা ও অনিয়মের পথেই চলছে।
এ ঘটনায় রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন কবির, কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য আমিনুল ইসলাম মাসুদ ও কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ সম্পাদক এসএম সাব্বিরের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শাকিব খান বলেন, “কমিটি গঠনে অনিয়মের বিষয়ে আমরা একাধিকবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। কমিটি বাণিজ্য, দুর্নীতি ও গুটিকয়েক নেতার একক আধিপত্যের কারণে আমরা জেলার সব ইউনিটকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।”
Leave a Reply