বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক যুগেরও বেশি সময় মাঠ কাঁপিয়ে এবার প্রশাসনিক অঙ্গনে পা রাখছেন তামিম ইকবাল। দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল যে, দেশের সবচেয়ে সফল ওপেনার বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই নিশ্চিত করলেন, তিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তামিমের ঘোষণা
এক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তামিম বলেছেন, “আমি এবার নির্বাচন করছি। আমি ক্রিকেটে বিনিয়োগ করেছি, দুটি ক্লাবের সঙ্গে জড়িত আছি। ফলে কাউন্সিলর হবই।”বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সরাসরি সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া যায় না। প্রথমে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তবেই সভাপতি হওয়ার পথ খুলে যায়। আর তামিম সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।
বোর্ডে নতুন মাত্রা
তামিমের মাঠে নামার ঘোষণার পর বোর্ড রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, শুধু পরিচালক নয়, ভবিষ্যতে বিসিবি সভাপতির পদেও চোখ রয়েছে তার।বর্তমানে বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে তামিমের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারের প্রবেশ বিসিবির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নেতৃত্বে অস্থিরতা ও তামিমের সুযোগ
গত এক বছরে বিসিবির শীর্ষপদে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। নাজমুল হাসান পাপন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়েন। এরপর এনএসসি কোটায় নিয়োগ পাওয়া ফারুক আহমেদ দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বের খোঁজে ক্রিকেট মহল।তামিমের জনপ্রিয়তা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ক্রিকেট জ্ঞান তাকে একটি শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বর্তমানে পরিবর্তনের মোড়কে দাঁড়িয়ে। মাঠের পারফরম্যান্স, অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। তামিম ইকবালের প্রবেশ তাই কেবলমাত্র একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ক্রিকেটের দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply