সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও নির্বাচন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, “তিনি অত্যন্ত ভালো বলেছেন। জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী তিনি বক্তব্য দিয়েছেন, এবং আমরা সবাই মিলে তাকে সহযোগিতা করতে চাই। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা যেভাবে সহযোগিতা করছি, তেমনই আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব। কারণ, তারা আমাদের আন্দোলনের ফসল।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নির্বাচনের জন্য লড়াই ও সংগ্রাম করেছি। কারণ, বিগত নির্বাচন রাতের অন্ধকারে, একদলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বারবার বলেছিলেন, জনগণ তার ওপর আস্থা রাখুক। কিন্তু বাস্তবে গত ১৫ বছরে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “বর্তমানে দেশে স্থিতিশীলতা আনতে হলে, প্রথমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে না, এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে। তবে, যদি এমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে সহিংসতা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, তাহলে আমাদের বুঝতে হবে কোন ধরনের নির্বাচন আমরা চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই মাঠের নেতা। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব আমরাই দিয়েছি। ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন মোকাবিলায় আমাদের অনেক নেতা-কর্মী গুম, খুন, এবং কারাবন্দি হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করছি, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে।”
বিএনপির বর্ধিত সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে সবার বক্তব্য একটাই—সবার আগে ফ্যাসিবাদের বিচার চাই, শেখ হাসিনার বিচার চাই। আমাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রের অংশ।”
তারেক রহমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি বারবার আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেছেন। আমরা মতভেদ থাকতে পারে, তবে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা যায়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের মাঝে বক্তব্য রেখেছেন।”
শেষে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে হলে সবার আগে দরকার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। এটাই আমাদের সবার দাবি, যার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন, সংগ্রাম, ও লড়াই করছি এবং এখনও করে যাচ্ছি।”
Leave a Reply