পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে ভয়াবহ নৌকাডুবিতে বাবা-মাকে হারানো সনাতনী শিশু দিপু রায়ের লেখাপড়া ও যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডক্টর শফিকুর রহমান।
২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দিপুর বাবা-মাসহ ৭২ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর জামায়াতের আমির শিশুটির দায়িত্ব নিতে চাইলেও, তৎকালীন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও তার স্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিলে তিনি সরে যান। তবে, ঘোষণা দিয়েও পরে আর কোনো খোঁজ না নেওয়ায় এবার শিশুটির দায়িত্ব নিলেন জামায়াতের আমির।
ডক্টর শফিকুর রহমান জানান, ২০২২ সালের নৌকাডুবির পর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে যাওয়ার। সেই সময় ছোট্ট দিপুকে কোলে নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল দুই বছরের কাছাকাছি, সে তখনো কথা বলতে পারতো না।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত যেসব শিশু এতিম হয়ে যায়, তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমি দেখলাম, আমাদের যাওয়ার পরের দিনই ওই এলাকার তৎকালীন সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী ঘোষণা দেন যে শিশুটির দায়িত্ব তারা নেবেন। আমরা ভেবেছিলাম, ভালোই হলো, শক্তিশালী অভিভাবক পাওয়া গেল। কিন্তু পরে জানতে পারলাম, তারা কোনো খোঁজ নেননি।
দিপুর ভাই পরিতুষকে জিজ্ঞেস করে জামায়াতের আমির জানতে পারেন, মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কেবল কিছু জামা-কাপড় দেওয়া হয়েছিল, তবে পড়াশোনা বা জীবনযাপনের অন্য কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, জামা-কাপড় দিলে খাবে কী? তার পড়ালেখার ব্যবস্থা কে করবে? আলহামদুলিল্লাহ, আজ আবার তাকে কোলে নেওয়ার সুযোগ হলো। যতদিন দিপু প্রাপ্তবয়স্ক না হয়, তার লেখাপড়া ও যাবতীয় দায়িত্ব আমরা নেব। প্রতি মাসের এক তারিখে আমরা এই পরিবারের পাশে থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply