free tracking

প্রতিদিন গোসল করা কি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর? বিশেষজ্ঞদের মতামত!

আগে মনে করা হতো প্রতিদিন গোসল করাকে ক্ষতিকর বলে মনে করা হতো। ধারণা ছিল, এতে ত্বকের মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন আসে, প্রাকৃতিক তেল ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

অনেকে মনে করেন প্রতিদিন গোসল করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু সত্যিই কি তা-ই? এ বিষয়ে কথা বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের মেডিকেল ডার্মাটোলজিস্ট ড. রোজালিন্ড সিম্পসন। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ বিষয়টি। মেডিকেল ডার্মাটোলজিস্ট ড. রোজালিন্ড সিম্পসন বলেন, দুই মাস আগে আমাকে যদি এই প্রশ্ন করা হতো, তাহলে হয়তো ভিন্ন উত্তর দিতাম। আগে মনে করা হতো প্রতিদিন গোসল করাকে ক্ষতিকর বলে মনে করা হতো। ধারণা ছিল, এতে ত্বকের মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন আসে, প্রাকৃতিক তেল ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে যায়। এছাড়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে, যা ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জেন প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।

গবেষণার নতুন উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের গবেষণা দল একজিমা রোগীদের ওপর একটি র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়াল চালিয়েছে, যার ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। ৪৩৮ জন একজিমা রোগীকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়—একটি গ্রুপকে সপ্তাহে ছয় বা তার বেশি বার গোসল করতে বলা হয়, আর অন্য গ্রুপকে মাত্র এক বা দুইবার।

সিম্পসন জানান, আমরা ধারণা করেছিলাম, যারা প্রতিদিন গোসল করবে, তাদের ত্বক বেশি শুষ্ক হবে এবং একজিমার উপসর্গ বাড়বে। কিন্তু ফলাফল ভিন্ন এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গোসল করা ও কম গোসল করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি মনে করেন, এটি শুধু একজিমা রোগীদের জন্যই নয়, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

যেভাবে গোসল করতে হবে: বিভিন্ন গবেষণা পর সিম্পসন জানিয়েছেন আপনি কীভাবে গোসল করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। গোসলের পানি বেশি গরম হলে বা বেশি সময় ধরে গোসল করলে ত্বক শুষ্ক হতে পারে। তাই অতিরিক্ত পানির ব্যবহার এড়িয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করাই ভালো। তিনি আরও বলেন, সাবান, শেভিং ক্রিম বা শাওয়ার জেলের উপাদানগুলোর দিকেও খেয়াল রাখা উচিত। বিশেষ করে মিথাইলআইসোথিয়াজোলিনোন, মিথাইলক্লোরোইসোথিয়াজোলিনোন, সালফেট ও প্যারাবেন এর মতো উপাদান থাকলে ত্বকে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

অন্যদিকে, যাদের ত্বকে সমস্যা হয়, তারা সাধারণ সাবানের পরিবর্তে এমোলিয়েন্ট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।সবশেষে বিশেষজ্ঞের পরামর্শসিম্পসন বলেন, সবার ত্বকের ধরন আলাদা। তাই যেটা আপনার জন্য আরামদায়ক ও উপকারী, সেটাই করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *