free tracking

বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করে যা বললেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে কিছু দেশের ওপর ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে, যেখানে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করে বলেছেন, “বাংলাদেশ, ৭৪ শতাংশ (শুল্ক) দেখুন কী চলছে।” এর মাধ্যমে তিনি এই দেশের মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপ করা শুল্কের বিষয়ে একটি কঠোর মন্তব্য করেছেন।

এই নতুন শুল্ক নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর পূর্বের ১৫ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের জন্য নতুন শুল্ক আইন প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তনটি বিশেষত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক, যা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী রপ্তানি এবং শুল্কের প্রভাব:

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যার মধ্যে ৭.৩৪ বিলিয়ন ডলার (৭৩৪ কোটি) মূল্যের তৈরি পোশাক রয়েছে। এই শুল্ক বাড়ানোর কারণে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি যে পরিমাণ বড়, সেই হিসেবে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ:

এছাড়াও, ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছেন। এদের মধ্যে:

ভারত: ২৬ শতাংশ

পাকিস্তান: ২৯ শতাংশ

চীন: ৩৪ শতাংশ

ভিয়েতনাম: ৪৬ শতাংশ

কম্বোডিয়া: ৪৯ শতাংশ

থাইল্যান্ড: ৩৬ শতাংশ

জাপান: ২৪ শতাংশ

দক্ষিণ কোরিয়া: ২৫ শতাংশ

এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, চিলি, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, কলম্বিয়া, মিয়ানমার, লাওস, এবং মাদাগাস্কারসহ অনেক দেশের পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য ও পরিণতি:

এটি একটি পারস্পরিক শুল্ক নীতি, যার মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রশাসন আশা করছে, মার্কিন পণ্যের ওপর অন্যান্য দেশগুলো যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল, তার পরিমাণ কমাতে তারা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, কিছু দেশ, বিশেষ করে চীন বাদে, মার্কিন পণ্যের ওপর কম বা কোন শুল্ক নেয়নি, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।

এ ধরনের শুল্ক আরোপ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের জন্য একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে এবং বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে, বিশেষত পোশাক খাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *