free tracking

ডাকসু ভোটে লড়াই জমে উঠেছে: জমজমাট প্রার্থী তালিকা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে প্রায় ছয় বছর পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ২০১৯ সালের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা হয়েছে, দিন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এতে করে শিক্ষার্থী মহলে বইছে উৎসাহ, কৌতূহল ও রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন হাওয়া।

নতুন পদ সংযুক্ত, ভোট হবে ২৮টি পদের জন্যএবারের ডাকসু নির্বাচনে আগের মতো সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ছাড়াও যুক্ত হয়েছে চারটি নতুন পদ—গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক এবং মানবাধিকার ও আইনবিষয়ক সম্পাদক। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এই নতুন পদগুলো যুক্ত করেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনা, শুরু হয়ে গেছে রণকৌশলনির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও স্বতন্ত্র প্যানেল সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে। আলোচনায় এগিয়ে থাকা কিছু প্রার্থীর নাম ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।

গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক প্যানেলজুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের নিয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ এবার অন্যতম বড় একটি প্লেয়ার হতে যাচ্ছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভিপি পদে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদেরকে এবং জিএস পদে আবু বাকের মজুমদারকে। এছাড়া এজিএস পদের জন্য আলোচনায় আছেন জাহিদ আহসান ও তাহমিদ আল মুদ্দাসির।

আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা চাই এমন একটি প্যানেল গঠন করতে যেখানে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করা, কিন্তু কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন—এমন মুখগুলোকে জায়গা দেওয়া হবে।”

স্বতন্ত্র ও অরাজনৈতিক উদ্যোগডাকসুতে স্বতন্ত্র ও অরাজনৈতিক প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত। এ উদ্যোগে যুক্ত আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহিও।

মহিউদ্দিন মাহি বলেন, “এটি সবচেয়ে ভালো সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোনমি ও স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার। ডাকসু শুধু নির্বাচন নয়, এটি হবে একটি দায়িত্বশীল ছাত্রশাসনের সূচনা।”

ছাত্রদল: দ্বিধা বিভক্ত অবস্থানবিএনপিপন্থী সংগঠন ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অংশগ্রহণে আগ্রহের অভাব থাকলেও ছাত্রদলের জুনিয়র নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান, এবং কবি জসীম উদ্দিন হলের তানভীর বারী হামিম।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় অংশগ্রহণজুলাই অভ্যুত্থানে পুনরায় আলোচনায় আসা ইসলামী ছাত্রশিবির-এর পক্ষ থেকেও প্রার্থী হওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম এবং বর্তমান সভাপতি এস এম ফরহাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। ঢাবি শাখার সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে মানসিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছি। শিগগির প্যানেল ঘোষণা করবো।”

বামপন্থী সংগঠনগুলোও পিছিয়ে নেইবাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর জাবির আহমেদ, এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক আছেন আলোচনায়। মোজাম্মেল হক বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে সেন্ট্রাল ও হল পর্যায়ের প্যানেল দেবো।”

ছাত্র অধিকার পরিষদের সক্রিয় প্রস্তুতি২০১৯ সালে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত নুরুল হক নুর এর ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ এবারও ভোটে অংশ নেবে। কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা নিজেই ভিপি প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামছেন বলে জানা গেছে।

প্যানেল গঠনে আলোচনা করছেন অ্যাকটিভিস্টরাও‘ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি’ স্লোগান নিয়ে ক্যাম্পাসের অ্যাকটিভিস্ট জামালুদ্দিন খালিদ একটি অরাজনৈতিক প্যানেল গঠনের চেষ্টা করছেন। এছাড়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসেনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কাও রয়েছে২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে নানান অনিয়ম, ফলাফল নিয়ে বিতর্ক এবং একতরফা বিজয়ের স্মৃতি এখনো তরতাজা। এবারের নির্বাচনে যেন সেই পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিয়েও ছাত্রসমাজ উদ্বিগ্ন।মোজাম্মেল হক বলেন, “নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়, সেই নিশ্চয়তা প্রশাসনকে দিতে হবে। প্রতিটি সংগঠন যেন স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *