free tracking

হাসনাতকে যে উপহার পাঠালেন রুমিন ফারহানা!

সম্প্রতি তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে উত্তপ্ত সেই সম্পর্কের বরফ যেন গলতে শুরু করেছে—এমনই এক ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে রুমিনের পাঠানো উপহারের মাধ্যমে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ছতরপুর স্কুল মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক উঠান বৈঠকে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

উঠান বৈঠকে হাসনাত বলেন,“আমাদের সঙ্গে রুমিন ফারহানার একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছিল। তবে আমরা উনার এলাকায় আসছি শুনে উনি উনার লোকজন পাঠিয়েছেন, আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা খোঁজ নিয়েছেন এবং আমাদের জন্য কিছু উপহারও পাঠিয়েছেন। এটা রাজনীতির জন্য একটা পজিটিভ বার্তা। এটাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।”

রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন শুভ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,“দলীয় লোকজন এনসিপি নেতাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং তাদের জন্য ‘ছানামুখী’ পাঠানো হয়েছে। ছানামুখী একটি জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃত পণ্য এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার।”

এই উপহার বিনিময়কে অনেকে দেখছেন রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে।

এই দুই নেতার মধ্যকার উত্তেজনার সূচনা হয়েছিল বিজয়নগর আসনের পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত এক শুনানিতে।গত ২৪ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে বিএনপি ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়।

রুমিন ফারহানার অভিযোগ:তাকে শুনানির সময় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এনসিপি নেতা আতাউল্লাহর পাল্টা অভিযোগ:রুমিন ও তার লোকজনের আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি।

এর পরপরই এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যারিস্টার রুমিনকে ব্যঙ্গ করে বলেন,“তিনি বিএনপির ‘আওয়ামী বিষয়ক সম্পাদক’।”

এই মন্তব্যের জবাবে রুমিন ফারহানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসনাতের কিছু পুরনো ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন:“এই সেই ফকিন্নির বাচ্চাটা না?”

এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উগ্র বাক্য বিনিময়ের পর এই উপহার বিনিময় দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি প্রয়াস হতে পারে। এটা যদি রাজনীতিতে সৌজন্যবোধ ফেরানোর সূচনা হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্যও ইতিবাচক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *